বিশ্বকাপ শেষেই ‘মেসি’ আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানাবেন?

বয়স চলছে ৩১। চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপের সময় বয়স হবে ৩৫ ছুঁইছুঁই। সেসময় বয়সকে পাশ কাটিয়ে যদি ফর্মে থাকেন লিওনেল মেসি, হয়ত খেলতে পারবেন কাতার বিশ্বকাপেও। যদিও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আপাতত অতদূর কল্পনা করছেন না। ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোরও!

মেসির কথাতে উঠে এসেছে, রাশিয়ায় কতদূর যেতে পারবে আর্জেন্টিনা সেই বিবেচনায় অবসরের চিন্তাও করবেন তিনি। সংবাদ মাধ্যম স্পোর্টের সঙ্গে আলাপনে বলেছেন, ‘আমি ঠিক জানি না। এটা(অবসর) নির্ভর করবে আমরা বিশ্বকাপে কতদূর যাবো, কোথায় গিয়ে শেষ করবো তার উপর।’

২০১৬ সালেও একবার অবসর নিয়েছিলেন মেসি। সেবছর কোপা আমেরিকায় চিলির বিপক্ষে ফাইনালে হারের পর অভিমানে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে দেন। পরে তৎকালীন কোচ এগার্ডো বাউজা ও আর্জেন্টিনার অনুরোধে ফিরে এসে দেশকে তুলেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের মূলপর্বে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক হিসাব গড়ে দিয়েছে। তখন আর্জেন্টিনার রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলাই হুমকির মুখে ছিল।

মেসি অবসর ভেঙে ফিরেছেন, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে নিয়েছেন। কিন্তু মেসির ভালোমতই জানা, রাশিয়ায় শিরোপা জিততে না পারলে নিজ দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে তাকেই। ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনাল থেকে খালি হাতে ফেরার পর সংবাদমাধ্যম ধুয়ে দিয়েছিল মেসিকেই। সেটা ভালোই মনে রেখেছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

‘আসল বিষয়টা হচ্ছে, আমরা টানা তিনটা ফাইনাল হেরেছি। আর সেটা আমাদের কঠিন এক অবস্থাতে ফেলে দিয়েছে, সঙ্গে আর্জেন্টিনার সংবাদ মাধ্যমগুলোকেও। কেউ বুঝতে চায় না যে টানা তিন ফাইনালে উঠতে পারাটা সহজ কোনো ব্যাপার নয়। এটা ঠিক শিরোপা জেতাটাই আসল বিষয়, কিন্তু ফাইনালে ওঠাটাও কিন্তু কম কিছু নয়।’

৩২ বছরের হাহাকার ঘুচিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে রোববার রাশিয়ায় পা ফেলেছেন মেসিরা। কিন্তু এরইমধ্যে দলে দুশ্চিন্তার তালিকায় যুক্ত হয়েছে চোটের মিছিল। মুল গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর পর মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল লানজিনি ছিটকে গেছেন। চোটে আছেন আরেক মিডফিল্ডার এভার বানেগাও। এরপরও বিশ্বকাপ জয়ের আশা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।

‘আমাদের দারুণ একদল খেলোয়াড় আছে। অনেক জাতীয় দলেরই এমন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় নেই। আর আমরা কাউকে ঈর্ষাও করি না।’