যে তিন জেলার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে আমি গিয়েছি। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটের প্রতিটি উপজেলায় গিয়েছি। সেখানকার মানুষের সমস্যার কথা শুনেছি। সরকারে আসার পর এসব মানুষের উন্নয়নে নানা উদ্যোগও নিয়েছি। ‘ধরলা নদীর উপর প্রথম সেতু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই হয়েছিল। এবার ধরলার দ্বিতীয় সেতুটি কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটের মানুষকে আমি ঈদ উপহার হিসেবে দিয়েছি। এটি আপনারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।’

রোববার (৩ জুন) কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নবনির্মিত শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম ধরলা ব্রিজও আমি করেছি। একটু কাজ বাকি ছিল। আমরা ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর পরবর্তী সরকারের প্রধান (খালেদা জিয়া) সেতুটি উদ্বোধন করতে গিয়ে বললেন, আগের সরকার (আওয়ামী লীগ) কিছুই করেনি।

আমি বললাম, দুই মাসের মধ্যে এত বড় সেতু তৈরি করলেন কীভাবে! পরে আমি যখন সেই এলাকায় গেলাম পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখে যেন সেতুটি পার হতে না পারি। আমরা ফেরি দিয়ে পার হয়েছি।ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা তিনটা সরকার গেল, কেউ আমাদের স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের কথা ভারতের কাছে তুলে ধরেনি, সাহসও পায়নি। আমরা এসে প্রথম বলি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলে বিলটি ভারতের পার্লামেন্টে উঠাতে সক্ষম হই। এটা আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য। বিলটি ভারতের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যা ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় ঘটনা, এর আগে হয়েছিল ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা প্রশ্নে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা ও আন্তরিকতা থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমার রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য। আমি আমার পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি, এখন আর আমার হারানোর কিছু নেই।