মাটিবিহীন ঘাস চাষে আবিরের সাফল্য

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের কলারন ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আবির হোসেন শখের বশে বাড়িতে কবুতর পালন করতো।

প্রথমে একজোড়া কবুতর দিয়ে শুরু করে এখন ১২টি কবুতরের মালিক তিনি। তবে কবুতর পালনে ভালো সফলতা না পেয়ে টেলিভিশনে কৃষিভিত্তিক একটি অনুষ্ঠান দেখে মাটিবিহীন ঘাস অর্থাৎ হাইড্রোপনিক ঘাস চাষে উৎসাহী হন তিনি।

পরবর্তীতে নিজের পরিত্যক্ত কবুতরের খাচার নিচের ট্রেতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন হাইড্রোপনিক ঘাস। এ চাষে সফল হয় ষষ্ঠ শ্রেণীর এই ছোট্ট আবির। ৬/৭ দিনের মাথায় ট্রেগুলো পরিণীত হলো এক একটি সবুজের খন্ডে।

এ ব্যাপারে আবির হোসেন জানান, গমবীজ থেকে ৭ দিনে উৎপাদিত ঘাস প্রায় ৮ ইঞ্চি লম্বা হয়। একটি দুধের গাভিকে এই ঘাস খাওয়ালে তার দুধ দেওয়ার পরিমাণ প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়ে এবং দৈনিক খাবার খরচও কমে যাবে। বর্তমানে আমাদের পালিত গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ঘাস উৎপাদান করছি। তবে কোনো খামারি যদি তার গরুকে গোখাদ্য হিসেবে হাইড্রোপনিক ঘাস খাওয়াতে আগ্রহী হয় তাহলে আমি বাণিজ্যিকভাবে এই ঘাস উৎপাদন করবো।

ইন্দুরকানী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দিন দিন গোচারণ ভূমির পরিমাণ কমছে, যার কারনে গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে সল্প জায়গায় অধীক পুষ্ঠি সম্পন্ন হাইড্রোপনিক ঘাস উৎপাদন করা যায়। হাইড্রোপনিক ঘাষে গরুর পুষ্টি চাহিদা পুরণ, গাভীর দুধ বৃদ্ধি ও দুধ ঘন হয়। তাই গরুর খামারিগন হাইড্রোপনিক ঘাস খাওয়ালে বেশি লাভবান হবেন।